২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

অর্থনীতি ও বাণিজ্য

ছোট দোকান থেকে বড় স্বপ্ন, পিজ্জা ভিলার উদ্যোক্তা মাহিদুলের গল্প

ছোট শুরুতে বড় বাজিমাত: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পিজ্জা ভিলার উদ্যোক্তা মাহিদুলের গল্প
ছোট শুরুতে বড় বাজিমাত: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পিজ্জা ভিলার উদ্যোক্তা মাহিদুলের গল্প

মাত্র ২০০ থেকে ২৫০ স্কয়ার ফিটের একটি ছোট দোকান। সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল মাহিদুল ইসলামের উদ্যোক্তা হওয়ার যাত্রা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পাইকপাড়ায় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া ‘পিজ্জা ভিলা’ এখন ধীরে ধীরে তৈরি করছে নিজস্ব কাস্টমার।

ব্যবসা শুরুর আগে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন জায়গায় প্রায় সাত বছর কাজ করেছেন মাহিদুল। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই নিজের শহরে শুরু করেন এই উদ্যোগ।

মাহিদুল ইসলামের ভাষায়, “সাত বছর কাজ করার পর সেই অভিজ্ঞতা জমিয়ে এখানে এসে, আমাদের নিজ শহরে গত বছর জানুয়ারি মাসে এটা শুরু করছি। সেখান থেকেই পথ চলা। এরপর আল্লাহর রহমতে আর পেছনে তাকাতে হয়নি।”

শুরু থেকেই তার লক্ষ্য ছিল মানসম্মত খাবার দেওয়া এবং কাস্টমারের আস্থা অর্জন করা। এ জন্য খাবারের মান ঠিক রাখার পাশাপাশি কাস্টমারকে খাবার তৈরির প্রক্রিয়া দেখানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে লাইভ কিচেনের।

মাহিদুল বলেন, “কোয়ালিটিফুল খাবার দিবেন, তাহলে মানুষ আপনার কাছে আসবে। আপনি যত কোয়ালিটিফুল দিবেন, তত মানুষ আপনার কাছে আসবে।”

পিজ্জা ভিলার আরেকটি দিক হলো শিক্ষার্থী ও তরুণদের কথা মাথায় রেখে মেনু তৈরি করা। তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে ভালো মানের খাবার দেওয়াই তাদের লক্ষ্য।

উদ্যোক্তার ভাষায়, “আমাদের মেনুটা খুবই বাজেট ফ্রেন্ডলি। আমরা এভাবেই তৈরি করছি যেন স্টুডেন্টরা সহজে খাবারটা পায়, ভালো কোয়ালিটির খাবারটা পায়।”

মাহিদুল জানান, যারা একবার পিজ্জা ভিলায় আসছেন, তাদের অনেকেই আবার ফিরে আসছেন। কাস্টমারের এই আস্থাকেই ব্যবসার সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন তিনি।

তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেই থেমে থাকতে চান না এই তরুণ উদ্যোক্তা। ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন শহরে পিজ্জা ভিলার আউটলেট করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। দীর্ঘমেয়াদি স্বপ্ন সারা বাংলাদেশে এই ব্র্যান্ডকে ছড়িয়ে দেওয়া।

মাহিদুল বলেন, “আমাদের ইচ্ছা আছে সারা বাংলাদেশে আউটলেট করার। এখন শুরু করছি মাত্র। পরবর্তীতে অন্য কোনো শহরে আউটলেট করা, সারা বাংলাদেশে এরকম আউটলেট করার—সেই আমাদের স্বপ্ন।”

মাত্র একটি ছোট দোকান থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ তাই শুধু একটি খাবারের ব্যবসার গল্প নয়। এটি অভিজ্ঞতা নিয়ে নিজের শহরে ফিরে এসে নতুন কিছু করার চেষ্টা করা একজন তরুণ উদ্যোক্তার গল্প।

ছোট শুরুতে বড় বাজিমাত—এভাবেই নিজের স্বপ্নকে সামনে রেখে এগিয়ে চলেছেন মাহিদুল ইসলাম।

btimes desk