২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শিক্ষা ও ক্যাম্পাস

স্মার্ট মাইক্রোগ্রিড গবেষণা নিয়ে বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্ববিদ্যালয়

জাতীয় পর্যায়ের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী আয়োজন ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এ প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েছে ইউনিভার্সিটি অব ব্রাহ্মণবাড়িয়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্ববিদ্যালয়)। মেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) অনুষদের একটি গবেষণাধর্মী প্রকল্প প্রদর্শন করা হচ্ছে।

‘ডিস্ট্রিবিউটেড হাইব্রিড পাওয়ার সিস্টেম ইন্টিগ্রেটেড উইথ স্মার্ট মাইক্রোগ্রিড’ শীর্ষক প্রকল্পটি বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং স্মার্ট মাইক্রোগ্রিড প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে তৈরি। জাতীয় পর্যায়ের এই আয়োজনে প্রকল্পটি প্রদর্শনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রম বৃহত্তর পরিসরে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬ ঢাকার আগারগাঁওয়ের নভোথিয়েটারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শিত হচ্ছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। বিভিন্ন বক্তার বক্তব্য ও উপস্থাপনায় দেশের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা উঠে এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উপস্থাপিত বিষয়গুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে জাতীয় লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অংশগ্রহণকে গবেষণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কাজী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, জাতীয় পর্যায়ের এমন একটি প্ল্যাটফর্মে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণা প্রদর্শিত হওয়া গর্বের বিষয়। সঠিক সুযোগ ও দিকনির্দেশনা পেলে তরুণ গবেষক ও শিক্ষার্থীরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ভবিষ্যতে গবেষণা খাতে সহায়তা আরও বাড়ানোর কথাও জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ সামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তিনির্ভর এবং টেকসই শক্তির ওপর ক্রমেই বেশি নির্ভরশীল। স্মার্ট মাইক্রোগ্রিডভিত্তিক এ গবেষণা দেশের জ্বালানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জাতীয় পর্যায়ের মেলায় অংশগ্রহণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আরও উৎসাহিত করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন ধারণার সৃষ্টি ও বাস্তবায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পটি উপস্থাপন করছেন ইইই অনুষদের লেকচারার ইফতেখার হায়দার নরেন। তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়া আনন্দের বিষয়। জাতীয় পর্যায়ের এমন আয়োজন গবেষকদের নিজেদের কাজ বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ করে দেয়।

তার মতে, গবেষণা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধান ও জাতীয় উন্নয়নে কাজে লাগানোই হওয়া উচিত। এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতে আরও উন্নত ও প্রয়োগমুখী গবেষণায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করবে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার এবং ভবিষ্যতের স্মার্ট বিদ্যুৎ অবকাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ ধরনের গবেষণা আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। জাতীয় পর্যায়ের উদ্ভাবনী মেলায় অংশগ্রহণকে সেই গবেষণা কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

btimes desk