২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাজনীতি

শোভনের শোডাউন, সমীরের চ্যালেঞ্জ, রুবেলের পাল্টা জবাব

ছবি: এআই দিয়ে তৈরী

দুই বছর পর প্রকাশ্যে এসে ‘শোডাউন’ দিয়েছেন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন শোভন। এর পরই তাঁকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সমীর চক্রবর্তী, আর সেই চ্যালেঞ্জের কড়া জবাব দিয়েছেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের জেলা কমিটির সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল। এই ঘটনায় নতুন করে সরগরম হয়ে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনৈতিক অঙ্গন।

শোভনের শোডাউন

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন শাহাদাৎ হোসেন শোভন। দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ও তার কর্মীদের ফেইসবুক আইডি থেকে ‘আজ শহরে রাজা এসেছে!’ শিরোনামে একাধিক ভিডিও পোস্ট করা হয়। ভিডিওতে তাঁকে স্পিডবোটে হাত নেড়ে অভিবাদন জানাতে এবং নৌকায় থাকা কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে করমর্দন করতে দেখা যায়।

সূত্র জানায়, ভিডিওতে দেখা নৌকার স্থানটি শহরের দত্তখলা এলাকা, আর ১৫ আগস্টের কর্মসূচির ভিডিওটি ধারণ করা হয় মনিপুর এলাকায়। বিষয়টি নজরে আসার পর পুলিশও কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আত্মগোপনে থাকাকালীন শোভন ভারত, নেপাল, সৌদি আরব (ওমরাহ ভিসায়) ও মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সময়ে গুঞ্জন ছড়ালেও এ বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সমীরের চ্যালেঞ্জ

শোভনের এই প্রকাশ্য আবির্ভাবের প্রতিক্রিয়ায় জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সমীর চক্রবর্তী রোববার (২৩ আগস্ট) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দেন। তিনি লেখেন, ‘আশুগঞ্জের চরে খালে বিলে প্রোগ্রাম করেই এই অবস্থা—তারিখ, সময়, স্থান নির্ধারিত করে এসো, সামনাসামনি একদিন খেলবো।’

সরাসরি মুখোমুখি হওয়ার এই আহ্বান নিয়ে দ্রুতই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে।

রুবেলের পাল্টা জবাব

সমীর চক্রবর্তীর স্ট্যাটাসের জবাব দিতে দেরি করেননি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের জেলা কমিটির সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল। একই দিন নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পাল্টা মন্তব্যে তিনি লেখেন, ‘হুমকি দেন দাদা, আপনার ক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা সবার আছে। তারিখ, সময় যখন নির্ধারণ করব, তখন তোমাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমানায় তো দূরের কথা, কিশোরগঞ্জের হাওরেও খুঁজে পাব না।’

রুবেলের এই পাল্টা মন্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন করে আলোচনা-প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের মধ্যে উত্তেজনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে চলতি বছরের মে মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লিমন আল স্বাধীনের নেতৃত্বে শহরের মেড্ডা এলাকায় একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হলে তার প্রতিবাদে জেলা ছাত্রদল পৃথক তিনটি বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

সেই উত্তেজনার রেশ না কাটতেই শোভন-সমীর-রুবেলকে ঘিরে নতুন এই বাগযুদ্ধ প্রমাণ করে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাটিতে এই দুই ছাত্র সংগঠনের আধিপত্যের লড়াই এখনো অনেকটাই জীবন্ত।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ

স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ফেইসবুক-কেন্দ্রিক এই চ্যালেঞ্জ-পাল্টা চ্যালেঞ্জকে নিছক ভার্চুয়াল উত্তাপ হিসেবে দেখার সুযোগ কম। অতীতে একাধিকবার দেখা গেছে, এমন অনলাইন উত্তেজনা দ্রুতই রূপ নিয়েছে মাঠের কর্মসূচিতে। তাছাড়া ছাত্রলীগ যেহেতু নিষিদ্ধ সংগঠন, তাই এর নেতাদের যেকোনো প্রকাশ্য তৎপরতা বা বিবৃতি স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসনিক নজরদারির আওতায় চলে আসে।

শোভনের শোডাউন দিয়ে শুরু হওয়া এই পালা কোন দিকে মোড় নেয়—আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনৈতিক মহল।

আরও পড়ুন: শোভনের শোডাউন: নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ফেরার বার্তা

btimes desk